সাধারণ জিজ্ঞাসা

আপনার সব প্রশ্নের উত্তর — এক জায়গায়

সমিতি কিপার লাইট কীভাবে কাজ করে, ধাপে ধাপে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ। যে বিষয়ে জানতে চান, সেই বিভাগে চাপুন।

💬 ৪৯টি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর

শুরু ও অ্যাকাউন্ট

৫টি প্রশ্ন
অ্যাকাউন্ট খুলব কীভাবে?

কোনো কাগজপত্র বা কম্পিউটার লাগে না — শুধু একটা মোবাইল নম্বর হলেই হয়। ধাপগুলো এমন: (১) অ্যাপ খুলে আপনার নম্বর দিন, (২) সেই নম্বরে SMS-এ আসা OTP কোড বসান, (৩) এরপর ছোট্ট ৪টি ধাপের সেটআপে সমিতির নাম, আপনার নিজের নাম, আর কোন কোন সুবিধা (সঞ্চয় / ডিপিএস / এফডিআর / লোন / শেয়ার) চালু রাখবেন তা বেছে নিন। ব্যস — পুরো প্রক্রিয়া ২–৩ মিনিটেই শেষ, আর ওই দিন থেকেই সদস্য যোগ করে জমা তোলা শুরু করতে পারবেন। পরে যেকোনো সময় সেটিংস থেকে এসব বদলানোও যায়, তাই শুরুতে ভুল হলেও চিন্তা নেই।

প্রতিবার OTP দিতে হবে? সহজে লগইন করার উপায় কী?

না, প্রতিবার OTP লাগে না — সেটা শুধু প্রথমবার অ্যাকাউন্ট চেনার জন্য। প্রথম লগইনের পর একটা ৪ সংখ্যার পিন সেট করে নিন; এরপর থেকে অ্যাপ খুললেই শুধু পিন দিলে ঢুকে যাবেন, নম্বর বা OTP লাগবে না। আরও দ্রুত চাইলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লগইন (একটি প্রিমিয়াম সুবিধা) চালু করে নিন — তখন আঙুল ছোঁয়ালেই অ্যাপ খুলবে। পিনটা মনে রাখবেন, কাউকে বলবেন না; ভুলে গেলে আবার OTP দিয়ে নতুন পিন বসাতে পারবেন।

স্টাফ / আদায়কারী যোগ করব কীভাবে?

আরও → স্টাফ ম্যানেজমেন্ট → নতুন স্টাফ — এখানে তার নাম, মোবাইল নম্বর আর ভূমিকা (ম্যানেজার / হিসাবরক্ষক / আদায়কারী) দিন। সেভ করলেই তার নিজের একটা লগইন আইডি তৈরি হয়ে যায়, যা দিয়ে সে তার নিজের ফোনে ঢুকতে পারবে। কে কতটুকু করতে পারবে তা আপনি ভূমিকার অনুমতি (পারমিশন) থেকে ঠিক করে দেন — যেমন একজন আদায়কারীকে শুধু কিস্তি তোলার অনুমতি দিলেন, কিন্তু লেনদেন মুছে ফেলা বা রিপোর্ট দেখার অনুমতি দিলেন না। এতে টাকার হিসাব আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, আবার কাজও ভাগ হয়ে যায়। উদাহরণ: তিনজন আদায়কারীকে তিন এলাকায় দিয়ে দিলেন, প্রত্যেকে শুধু নিজের এলাকার সদস্যদের আদায় করবে।

ফোন হারিয়ে গেলে বা নতুন ফোন নিলে কী হবে?

কিছুই হারাবে না — এটাই এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। আপনার সমিতির সব হিসাব ফোনে নয়, নিরাপদ সার্ভারে (ক্লাউডে) জমা থাকে। তাই ফোন হারালে, ভেঙে গেলে বা চুরি হলেও এক টাকার হিসাবও যায় না। নতুন ফোনে শুধু অ্যাপটা নামিয়ে একই মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP-তে লগইন করুন — সঙ্গে সঙ্গে আগের সব সদস্য, জমা, লোন, রিপোর্ট হুবহু ফিরে পাবেন। পুরনো ফোনটা কারও হাতে গেলেও চিন্তা নেই: আপনি চাইলে সেই ডিভাইসের লগইন রিভোক করে দিতে পারবেন।

একটা অ্যাকাউন্টে কয়জন ব্যবহার করতে পারবে?

এটা নির্ভর করে আপনার প্ল্যানের উপর। প্রতিটি প্ল্যানে সদস্য-সীমার সাথে একটা ইউজার-সীমাও থাকে (যেমন ৫০ সদস্যের প্ল্যানে কয়েকজন ইউজার, বড় প্ল্যানে আরও বেশি)। মালিক আর সব স্টাফ একই সময়ে, যার যার নিজের আইডি দিয়ে কাজ করতে পারেন — একজন অফিসে বসে রিপোর্ট দেখছেন, আরেকজন মাঠে আদায় করছেন, সব একসাথে সিংক থাকে। বড় সুবিধা হলো, কে কোন লেনদেনটা করল তা আলাদা করে রেকর্ড থাকে, তাই দায়িত্ব ও জবাবদিহি পরিষ্কার থাকে।

সদস্য ব্যবস্থাপনা

৪টি প্রশ্ন
নতুন সদস্য ভর্তি করব কীভাবে?

নিচের সদস্য ট্যাবে যান → + নতুন সদস্য বোতামে চাপুন। শুধু নাম আর মোবাইল নম্বর দিলেই একজন সদস্য ভর্তি হয়ে যায় — বাকি সব (ছবি, এলাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নমিনি, জন্মতারিখ) ঐচ্ছিক, এখন না দিলে পরে যেকোনো সময় যোগ করা যায়। হিসাব নম্বর অ্যাপ নিজে থেকে বসিয়ে দেয়, তবে আপনার সমিতির নিজস্ব নম্বর-পদ্ধতি থাকলে হাত দিয়েও বসাতে পারবেন। উদাহরণ: মাঠে নতুন সদস্য পেলেন — নাম ও নম্বর লিখে সেভ করলেন, ছবি ও এনআইডি অফিসে ফিরে যোগ করলেন।

ভর্তি ফি নেওয়া যায়?

যায়, আর তা আলাদা করে হিসাবে লেখার ঝামেলাও নেই। সদস্য ভর্তির ফর্মেই একটা ভর্তি ফি ঘর আছে (চাইলে "ফরম ফি"-র মতো আরেকটা কাস্টম ফি-ও যোগ করা যায়)। ওখানে টাকার অঙ্ক লিখে সদস্য সেভ করলেই সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে আয়ের খাতায় (অনুমোদিত আয় ভাউচার হিসেবে) জমা হয়ে যায় — মানে একই কাজে সদস্যও ভর্তি হলো, আয়ও হিসাবভুক্ত হলো। ভর্তি ফি না নিলে ঘরটা ফাঁকা রাখুন, কিছুই যোগ হবে না।

এলাকা / গ্রুপ ভাগ করা যায়?

যায় — বড় সমিতির জন্য এটা খুব কাজের। আরও → এরিয়া/গ্রুপ থেকে আপনার এলাকাগুলো বানিয়ে নিন (যেমন "উত্তর পাড়া", "বাজার রোড", "কলেজ গেট"), তারপর প্রতিটি সদস্যকে তার এলাকায় ফেলে দিন। এর ফলে আদায়ের সময় এলাকা ধরে ধরে সদস্য-তালিকা সামনে আসে — আদায়কারী এলোমেলো না খুঁজে সরাসরি নিজের এলাকার লোকজন পায়। রিপোর্টও এলাকাভিত্তিক বের করা যায়, তাই কোন এলাকায় আদায় ভালো হচ্ছে, কোথায় বকেয়া বেশি, তা এক নজরে বোঝা যায়। চাইলে এক এলাকা এক আদায়কারীকেও বেঁধে দেওয়া যায়।

সদস্যরা কি নিজের হিসাব ফোনে দেখতে পারবে?

পারবে — এতে সমিতির উপর সদস্যদের আস্থা অনেক বাড়ে। প্রতিটি সদস্যকে চাইলে একটা মেম্বার অ্যাপ লগইন দেওয়া যায় (তার নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে)। সে নিজের ফোনে ঢুকে শুধু নিজের জমা, ডিপিএস, এফডিআর, শেয়ার আর লোনের হিসাব দেখতে পাবে — কবে কত জমা দিয়েছে, কত বাকি, সব। কিন্তু সমিতির মোট হিসাব বা অন্য সদস্যের তথ্য সে কখনোই দেখতে পাবে না। ফলে "আমার টাকা ঠিকমতো জমা হলো তো?" — এমন প্রশ্ন কমে যায়, স্বচ্ছতা বাড়ে।

সঞ্চয় (সাধারণ জমা)

৩টি প্রশ্ন
সদস্যের জমা তুলব কীভাবে?

নিচের মাঝের কালেকশন ট্যাবে যান → সদস্য বেছে নিন → সঞ্চয় জমা ঘরে টাকার অঙ্ক লিখে সেভ করুন। টাকাটা আপনি নগদে নিলেন, না ব্যাংকে, না বিকাশে — তা-ও বেছে দিতে পারবেন, তখন হিসাব ঠিক সেই তহবিলেই বসে (ব্যালেন্স মেলাতে সুবিধা)। সেভ করার সঙ্গে সঙ্গে সদস্যের ব্যালেন্স আপডেট হয়ে যায়, আর চাইলে সদস্যের মোবাইলে SMS রসিদও চলে যায় "আপনার এত টাকা জমা হলো, মোট ব্যালেন্স এত"। উদাহরণ: রহিম সাহেব ৫০০ টাকা নগদ দিলেন — সদস্য বেছে ৫০০ লিখে নগদ সিলেক্ট করে সেভ, রসিদ তার ফোনে।

সদস্য টাকা উত্তোলন করতে চাইলে?

সদস্যের পাতায় গিয়ে উত্তোলন বোতামে চাপুন, টাকার অঙ্ক লিখে সেভ করুন — ব্যালেন্স থেকে কেটে যাবে। নিরাপত্তার জন্য একটা সুন্দর নিয়ম আছে: কোনো স্টাফ উত্তোলনের আবেদন দিলে সেটা সরাসরি বের হয় না, আগে মালিক বা ম্যানেজারের অনুমোদন লাগে; অনুমোদনের পরই টাকা যায়। এতে ভুল করে বা না-জানিয়ে টাকা বের করে ফেলার সুযোগ থাকে না। মালিক নিজে করলে অবশ্য সরাসরিই হয়ে যায়।

জমার উপর সুদ/মুনাফা দেওয়া যায়?

যায়, আর তা নিজে হাতে হিসাব করতে হয় না। সেটিংসে একবার সুদের হার (যেমন বছরে ৬%) দিয়ে রাখলে, প্রতি মাসের শুরুতে আগের মাসের জমার উপর মুনাফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে যোগ হয়ে যায়। কোন সদস্যের কত মুনাফা হলো, সেই লেনদেনও খাতায় থেকে যায়, তাই পরে দেখা যায়। মুনাফা দিতে না চাইলে হার ০ (শূন্য) রাখুন — তখন কিছুই যোগ হবে না। উদাহরণ: মাসের ১ তারিখে অ্যাপ নিজেই সবার জমার উপর মুনাফা বসিয়ে দিল, আপনাকে কিছু করতে হলো না।

ডিপিএস

৪টি প্রশ্ন
ডিপিএস চালু করব কীভাবে?

দুই ধাপ। প্রথমে একবার একটা ডিপিএস স্কিম বানিয়ে রাখুন — আরও → প্রোডাক্ট/স্কিম থেকে ঠিক করুন কিস্তি কত টাকা, কত দিন পরপর (মাসিক/সাপ্তাহিক), মেয়াদ কত (যেমন ৩ বছর) আর মুনাফার হার কত। এরপর সদস্যের পাতা থেকে ডিপিএস খুলুন — শুধু বানানো স্কিমটা বেছে দিন, ওমনি পুরো মেয়াদের কিস্তির তালিকা নিজে থেকে তৈরি হয়ে যায় (কবে কবে কিস্তি পড়বে সব)। একই স্কিমে যত খুশি সদস্য যোগ করা যায়, বারবার সেটিং করতে হয় না। উদাহরণ: "মাসিক ৫০০ / ৩ বছর" স্কিম বানিয়ে ২০ জন সদস্যকে ওই এক স্কিমেই ঢুকিয়ে দিলেন।

কিস্তি আদায় করব কীভাবে?

কালেকশন ট্যাবে সদস্য বাছলেই তার বাকি কিস্তিগুলো সামনে চলে আসে — টাকার ঘরে অঙ্ক আগে থেকেই বসানো থাকে, তাই আপনাকে টাইপও করতে হয় না, শুধু সেভ চাপলেই আদায় হয়ে যায়। সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক: এক সদস্যের সঞ্চয় + ডিপিএস + লোন সব খাতের কিস্তি একসাথে দেখে একবারে সেভ করা যায়, বারবার আলাদা করতে হয় না। আর এতগুলো খাত আদায় হলেও সদস্যের কাছে বিরক্তিকর অনেকগুলো নয়, একটাই SMS যায় পুরো হিসাব নিয়ে।

কিস্তি মিস করলে জরিমানা হয়?

আপনি চাইলে হয়, না চাইলে হয় না — সিদ্ধান্ত আপনার। স্কিম বানানোর সময় একটা জরিমানার হার দিয়ে রাখলে, কোনো সদস্য দেরিতে কিস্তি দিলে অ্যাপ কতটি কিস্তি মিস হয়েছে তা ধরে জরিমানা নিজে থেকে হিসাব করে আদায়ের সাথে যোগ করে দেখায়। ওই জরিমানার ঘরে চাইলে আপনি হাত দিয়ে কমবেশিও করতে পারবেন (কাউকে ছাড় দিতে চাইলে)। জরিমানা না চাইলে স্কিমে হার ০ রাখুন। উদাহরণ: ২ মাস কিস্তি বন্ধ ছিল এমন সদস্য এলে অ্যাপ নিজেই জরিমানা যোগ করে দিল, আপনি চাইলে মাফ করে দিলেন।

মেয়াদ শেষে সদস্যকে টাকা ফেরত দেব কীভাবে?

ডিপিএস হিসাবের পাতায় বন্ধ / পরিশোধ অপশন আছে — সেখানে অ্যাপ আপনাকে দেখাবে সদস্য মোট কত জমা দিয়েছেন আর কত মুনাফা প্রাপ্য। সেই মোট টাকা (জমা + মুনাফা) সদস্যকে বুঝিয়ে দিয়ে পরিশোধ নিশ্চিত করুন, তখন হিসাবটি বন্ধ হয়ে যায়। মেয়াদের আগেই কেউ তুলতে চাইলেও একইভাবে বন্ধ করা যায়। সব লেনদেন খাতায় থেকে যায়, তাই পরে যেকোনো সময় "কে কবে কত পেয়েছিল" দেখা যাবে — কোনো তথ্য মুছে যায় না।

এফডিআর (স্থায়ী আমানত)

৩টি প্রশ্ন
এফডিআর কীভাবে কাজ করে?

ডিপিএস-এ যেমন প্রতি মাসে অল্প অল্প জমা হয়, এফডিআর তার উল্টো — সদস্য একবারেই একটা মোটা টাকা রেখে দেন একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য (যেমন ১ লাখ টাকা, ১ বছরের জন্য)। মুনাফা কেমন দেবেন তা স্কিম বানানোর সময় ঠিক করেন — fixed (পুরো মুনাফা মেয়াদ শেষে একবারে) অথবা monthly (প্রতি মাসে মুনাফা তুলতে পারবেন)। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদের মাঝখানে মূল টাকায় নতুন জমা বা আংশিক উত্তোলন হয় না — এটাই স্থায়ী আমানতের বৈশিষ্ট্য। উদাহরণ: কেউ ১ বছরের জন্য ১ লাখ রাখলেন, মাসে মাসে মুনাফা তুলবেন, মূল ১ লাখ বছর শেষে ফেরত পাবেন।

মুনাফা কি নিজে থেকে হিসাব হয়?

হয় — আপনাকে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসতে হয় না। প্রাপ্য মুনাফা অ্যাপ নিজে থেকে হিসাব করে একটা আলাদা প্রফিট সেকশনে জমা করতে থাকে, আর কত মুনাফা জমেছে তা হিসাবের পাতায় সবসময় দেখা যায়। সদস্য চাইলে মূল টাকায় হাত না দিয়ে শুধু মুনাফার টাকা আলাদাভাবে উত্তোলন করতে পারেন (monthly স্কিম হলে প্রতি মাসে)। এতে হিসাব পরিষ্কার থাকে — কোনটা মূল, কোনটা মুনাফা, সব আলাদা।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জানব কীভাবে?

অ্যাপই আপনাকে আগে থেকে মনে করিয়ে দেবে, তাই মেয়াদপূর্তি চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ভয় নেই। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭ দিন আগে আপনার ফোনে একটা নোটিফিকেশন আসে, আর চাইলে সদস্যের কাছেও SMS রিমাইন্ডার পাঠানো যায়। ফলে আপনি হাতে সময় নিয়ে ঠিক করতে পারবেন — মেয়াদ নবায়ন করবেন, নাকি টাকা মুনাফাসহ ফেরত দেবেন। উদাহরণ: মেয়াদ শেষের এক সপ্তাহ আগে নোটিফিকেশন পেয়ে সদস্যকে ফোনে জানিয়ে দিলেন।

লোন

৪টি প্রশ্ন
লোন দেওয়ার ধাপগুলো কী কী?

পুরো ব্যাপারটা তিন ধাপে, ব্যাংকের মতোই পরিচ্ছন্ন: আবেদন → অনুমোদন → বিতরণ। প্রথমে সদস্যের পাতায় লোনের আবেদন তুলুন (কত টাকা, কয় কিস্তিতে শোধ, মুনাফার হার কত)। এরপর মালিক বা ম্যানেজার অনুমোদন দিলে আবেদনটা পাস হয়। সবশেষে বিতরণ বোতামে চাপলে টাকা বের হয় আর পুরো কিস্তির তালিকা নিজে থেকে তৈরি হয়ে যায় (কবে কত কিস্তি পড়বে)। প্রতিটি ধাপে কে করল তা রেকর্ড থাকে, তাই দায়িত্ব পরিষ্কার। উদাহরণ: আদায়কারী আবেদন তুলল, ম্যানেজার অনুমোদন দিল, ক্যাশিয়ার বিতরণ করল — তিনজনের নাম তিন ধাপে বসে গেল।

লোনের কিস্তি আদায় করব কীভাবে?

সঞ্চয় বা ডিপিএসের মতোই — নিচের কালেকশন ট্যাব থেকে সদস্য বাছলে তার বাকি লোন-কিস্তি অঙ্কসহ সামনে চলে আসে, শুধু সেভ করলেই আদায়। মজার ব্যাপার হলো, আদায়ের টাকা আসল আর মুনাফা — এই দুই ভাগে অ্যাপ নিজে থেকে ভাগ করে খাতায় বসিয়ে দেয়, আপনাকে হাতে ভাগ করতে হয় না। এক সদস্যের সঞ্চয়-ডিপিএস-লোন সব একসাথে তুলে একবারে সেভ করা যায়, আর সদস্যের কাছে একটাই SMS যায়। ফলে মাঠের আদায় দ্রুত ও নির্ভুল হয়।

কে কত লোন নিয়ে বসে আছে দেখব কীভাবে?

দুই জায়গায় সবসময় চোখের সামনে। এক, হোম স্ক্রিনের "লোন আউটস্ট্যান্ডিং" কার্ডে পুরো সমিতির মোট বকেয়া লোন লাইভ দেখা যায়। দুই, বিস্তারিত চাইলে রিপোর্ট → লোন রিপোর্ট — এখানে এক পাতায় কার কত লোন চলছে, কত আদায় হয়েছে, কত বকেয়া, আর কে কত দিন পিছিয়ে (ওভারডিউ) সব দেখা যায়। ফলে খারাপ ঋণ হাতছাড়া হওয়ার আগেই ধরা পড়ে, তাগাদা দেওয়া সহজ হয়।

আগামীকাল কার কার কিস্তি — আগে থেকে জানা যায়?

যায়, আর এটা আদায় বাড়ানোর দারুণ একটা হাতিয়ার। প্রতিদিন সকালে অ্যাপ নিজে থেকে আপনাকে একটা নোটিফিকেশন দেয় — আগামীকাল কতগুলো লোন ও ডিপিএস কিস্তি পড়বে আর মোট কত টাকা আদায় করার আছে। চাইলে ওই সদস্যদের কাছেও আগের দিন সকালে SMS রিমাইন্ডার পাঠানো যায়, যাতে তারা টাকা হাতে রাখেন। ফলে "ভুলে গিয়েছিলাম" জাতীয় অজুহাত কমে, আদায় মিস হয় কম। উদাহরণ: আজ সকালে জানলেন কাল ১২টা কিস্তি — আগেই এলাকা অনুযায়ী রুট ঠিক করে ফেললেন।

শেয়ার

২টি প্রশ্ন
সদস্যকে শেয়ার দেব কীভাবে?

সদস্যের পাতায় শেয়ার অংশে যান — কয়টা শেয়ার দিচ্ছেন আর প্রতিটির দাম কত, তা লিখে ইস্যু করুন। টাকা নগদ / ব্যাংক / বিকাশ কোনটায় নিলেন তা-ও বেছে দিতে পারবেন, হিসাব সেই তহবিলেই বসবে। কোনো সদস্য শেয়ার ফেরত দিতে চাইলে একইভাবে শেয়ার অংশ থেকে ফেরত এন্ট্রি দিন — শেয়ার-সংখ্যা আর টাকার হিসাব নিজে থেকে মিলে যায়। উদাহরণ: করিম সাহেব ১০টি শেয়ার নিলেন প্রতিটি ১০০ টাকায় — মোট ১০০০ টাকা বিকাশে জমা, শেয়ার তার নামে বসে গেল।

কার কয়টা শেয়ার আছে দেখব কোথায়?

দুইভাবে দেখা যায়। প্রতিটি সদস্যের পাতাতেই তার নিজের শেয়ার-সংখ্যা আর মোট টাকার হিসাব থাকে। আর পুরো সমিতির চিত্র একসাথে দেখতে চাইলে রিপোর্ট → শেয়ার রিপোর্ট — এখানে এক পাতায় মোট কত শেয়ার ইস্যু হয়েছে, কার কাছে কত আছে, আর মোট কত টাকা শেয়ার বাবদ উঠেছে সব দেখা যায়। লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) ভাগ করার সময় এই রিপোর্টই কাজে লাগে — কে কত শেয়ারের মালিক, তার ভিত্তিতে ভাগ করা সহজ হয়।

আদায় (কালেকশন)

৪টি প্রশ্ন
মাঠে গিয়ে আদায়ের সবচেয়ে দ্রুত উপায় কী?

নিচের মাঝের কালেকশন ট্যাবটাই এই কাজের জন্য বানানো। এলাকা বেছে নিলে সেই এলাকার সদস্য-তালিকা আসে, আর যাদের কিস্তি বাকি তারা আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকে — কাকে ধরতে হবে খুঁজতে হয় না। সদস্যে চাপলেই তার সব খাতের বাকি অঙ্ক আগে থেকে বসানো অবস্থায় সামনে আসে; শুধু সেভ। সবচেয়ে বড় সুবিধা: এক সদস্যের সঞ্চয় + ডিপিএস + লোন + শেয়ার সব একসাথে একবারে আদায় হয়ে যায়, বারবার আলাদা করতে হয় না। ফলে মাঠে প্রতিটি সদস্যে ১০–১৫ সেকেন্ডেই কাজ শেষ।

আদায়ের রসিদ দেওয়া যায়?

যায়, তা-ও তিনভাবে — যেটা যার জন্য সুবিধা। এক, সদস্যের মোবাইলে নিজে থেকে SMS রসিদ চলে যায় (এক আদায়ে বিরক্তিকর অনেকগুলো নয়, একটাই SMS — পুরো হিসাব নিয়ে)। দুই, চাইলে WhatsApp-এ একটা সুন্দর ছবির রসিদ পাঠানো যায়। তিন, পকেটে থার্মাল প্রিন্টার থাকলে সাথে সাথে কাগজের রসিদও প্রিন্ট হয় (আরও → প্রিন্টার সেটিংস থেকে চালু করুন)। যাদের স্মার্টফোন নেই তাদের কাগজের রসিদ, আর যাদের আছে তাদের SMS — সবার জন্যই সমাধান আছে।

স্টাফ যা আদায় করল সেই টাকার হিসাব কীভাবে রাখব?

এখানে একটা চমৎকার নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আছে। কোনো স্টাফ মাঠে যা তোলে তা সরাসরি সমিতির মূল ক্যাশে মেশে না — জমে তার নিজের কালেক্টর ওয়ালেটে। দিনশেষে স্টাফ অফিসে এসে টাকা বুঝিয়ে দিলে আপনি একটা হ্যান্ডওভার এন্ট্রি দেন, ঠিক তখনই সেই টাকা মূল ক্যাশে ওঠে। ফলে কোন স্টাফের হাতে এই মুহূর্তে কত টাকা আছে, তা হোম স্ক্রিনের কার্ডেই পরিষ্কার দেখা যায় — টাকা হারানো বা গরমিলের সুযোগ কমে যায়। উদাহরণ: তিন আদায়কারীর হাতে যথাক্রমে ৮ হাজার, ৫ হাজার, ৩ হাজার জমা — এক নজরেই দেখলেন, তিনজনের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে হ্যান্ডওভার দিলেন।

আজ মোট কত আদায় হলো দেখব কোথায়?

হোম স্ক্রিনের "আজকের জমা" কার্ডে সারাদিন লাইভ দেখা যায় — যত আদায় হয় সংখ্যা তত বাড়ে। কার্ডে চাপ দিলে বিস্তারিত তালিকা খোলে: কোন সদস্য, কোন খাতে (সঞ্চয়/ডিপিএস/লোন), কত টাকা, কখন, আর কোন আদায়কারী তুলল — সব। এছাড়া প্রতি রাতে (৯টার দিকে) দিনের একটা সারাংশ নোটিফিকেশন পাবেন — আজ মোট কত আদায়, কত খরচ হলো। ফলে অফিসে না বসেও পুরো দিনের হিসাব হাতের মুঠোয় থাকে।

আয়-খরচ ও হিসাব

৩টি প্রশ্ন
সমিতির খরচ লিখব কীভাবে?

হোম স্ক্রিনের বড় খরচ বোতামে চাপুন → কীসের খরচ তা খাত বেছে নিন (অফিস ভাড়া, স্টাফ বেতন, আপ্যায়ন, বিদ্যুৎ বিল…) → টাকার অঙ্ক লিখে সেভ। আয়-ও ঠিক একইভাবে (হোমের আয় বোতাম থেকে)। টাকাটা নগদ / ব্যাংক / বিকাশ কোন তহবিল থেকে গেল তা বেছে দিলে ব্যালেন্স ঠিক সেখান থেকেই কাটে, তাই কোন খাতে কত আছে সবসময় মেলে। উদাহরণ: অফিসের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ব্যাংক থেকে দিলেন — খরচ → "অফিস ভাড়া" → ৩০০০ → ব্যাংক → সেভ।

ভুল এন্ট্রি মুছতে পারব?

সরাসরি ডিলিট করা যায় না — আর এটা ইচ্ছা করেই এমন রাখা, আপনার সমিতির সুরক্ষার জন্য। কোনো ভুল লেনদেন হলে সেটা বাতিল করতে হয়: বাতিল করার সময় একটা কারণ লিখতে হয়, আর অ্যাপ একটা উল্টো (রিভার্স) এন্ট্রি দিয়ে হিসাব সমান করে দেয়। মূল ভুল এন্ট্রিটা কিন্তু রেকর্ডে থেকে যায়, মুছে যায় না। এর ফায়দা হলো — ভবিষ্যতে কেউ যদি খাতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বা অডিট হয়, তখন "কী ভুল হয়েছিল, কে কখন কেন ঠিক করল" তার পুরো প্রমাণ আপনার হাতে থাকে। এতে আপনার সততা প্রমাণ করা সহজ।

ব্যাংক আর বিকাশের টাকার হিসাবও রাখা যায়?

যায়, আর এটাই সঠিক হিসাবের চাবিকাঠি। আপনার নগদ, এক বা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর বিকাশ — প্রতিটি তহবিলের ব্যালেন্স অ্যাপে আলাদা করে থাকে। যেকোনো জমা, খরচ, আদায় বা উত্তোলনের সময় "কোন তহবিল ব্যবহার হলো" তা বেছে দিলে ব্যালেন্স ঠিক সেখানেই ওঠানামা করে। হোম স্ক্রিনে সব তহবিলের মোট হাতে নগদ সবসময় দেখা যায়, আর চাইলে প্রতিটি তহবিলের আলাদা স্টেটমেন্টও বের করা যায়। উদাহরণ: মাসের শেষে মিলিয়ে দেখলেন — অ্যাপে ব্যাংক ব্যালেন্স যা দেখাচ্ছে, ব্যাংকের খাতাতেও ঠিক তা-ই।

রিপোর্ট

৩টি প্রশ্ন
কী কী রিপোর্ট পাওয়া যায়?

প্রায় সব ধরনের হিসাবের রিপোর্টই আছে, আর রিপোর্ট ট্যাবে সেগুলো মডিউল ধরে সাজানো, খুঁজতে সুবিধা। যেমন: আদায় শীট (দিন/মাস ভিত্তিক সারাংশ ও সদস্য-ধরে বিস্তারিত), সদস্যের পাসবুক (ব্যাংকের পাসবইয়ের মতো), সঞ্চয় / ডিপিএস / এফডিআর / লোন / শেয়ার — প্রতিটির আলাদা রিপোর্ট, আয়-খরচের হিসাব, আর হিসাবরক্ষণের জন্য ট্রায়াল ব্যালেন্স ও ব্যালেন্স শীট। মোট কথা, কমিটির মিটিং, বার্ষিক সাধারণ সভা বা অডিট — যেখানেই হিসাব দেখাতে হোক, এখান থেকেই বের করে নেওয়া যায়।

রিপোর্ট কি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করা যায়?

যায় — প্রায় প্রতিটি রিপোর্ট PDF (সুন্দর বাংলা ফন্টসহ) আর Excel/CSV ফাইল হিসেবে নামানো যায়, চাইলে সরাসরি WhatsApp বা ইমেইলে শেয়ারও করা যায়। কমিটির মিটিং বা অডিটে কাগজে দেখাতে হলে PDF-টা ছাপিয়ে নিন; আবার কেউ Excel-এ নিজে হিসাব মেলাতে চাইলে CSV নামিয়ে দিন। উদাহরণ: বছর শেষে সাধারণ সভার আগে পুরো বছরের আয়-ব্যয় ও ব্যালেন্স শীট PDF করে ছাপিয়ে সবার হাতে দিলেন।

সদস্য তার হিসাবের প্রমাণ চাইলে কী দেব?

ওই সদস্যের পাসবুক রিপোর্ট বের করে দিন — এতে তারিখ ধরে ধরে তার সব জমা, উত্তোলন আর কিস্তি এক পাতায় সাজানো থাকে, একদম ব্যাংকের পাসবইয়ের মতো, তাই সদস্য সহজেই বোঝেন ও বিশ্বাস করেন। এটা PDF করে WhatsApp-এ পাঠিয়ে দিতে পারেন, অথবা সদস্যকে একবার মেম্বার অ্যাপ লগইন দিয়ে দিলে সে নিজেই সবসময় তার হিসাব দেখতে পাবে, বারবার আপনার কাছে চাইতে হবে না। এতে আপনার সময়ও বাঁচে, সদস্যের আস্থাও বাড়ে।

SMS

৩টি প্রশ্ন
সদস্যদের কাছে SMS কীভাবে যায়?

মূলত দুইভাবে। এক, আদায় বা জমার সাথে সাথে একটা রসিদ-SMS চলে যায় ("এত টাকা জমা হলো, ব্যালেন্স এত") — না চাইলে এটা বন্ধও রাখা যায়। দুই, নিজে থেকে রিমাইন্ডার: আগামীকাল যাদের ডিপিএস বা লোনের কিস্তি পড়বে, তাদের কাছে আগের দিন সকালে অ্যাপ নিজেই তাগাদার SMS পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া দরকারে বাল্ক SMS-ও পাঠানো যায় — সমিতির সবাইকে একসাথে, বা শুধু একটা এলাকার সদস্যদের (যেমন মিটিং বা ছুটির নোটিশ)।

SMS-এর খরচ কীভাবে হিসাব হয়?

SMS পাঠাতে অ্যাপে একটা SMS ব্যালেন্স থাকতে হয়, আর সেটা আপনি অ্যাপ থেকেই বিকাশে টপ-আপ করে নিতে পারবেন — বাইরে কোথাও যেতে হয় না। কত ব্যালেন্স আছে, কোন SMS কার কাছে কখন গেল (ডেলিভার হলো কি না) — সব SMS লগে পরিষ্কার দেখা যায়, তাই টাকার হিসাবে কোনো ধোঁয়াশা থাকে না। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে শুধু SMS-টা যাবে না, কিন্তু আপনার সমিতির মূল হিসাবের কোনো ক্ষতি হয় না — আদায়-জমা সব ঠিকঠাক চলবে।

SMS-এর লেখা কি নিজের মতো করা যায়?

যায়। আরও → SMS টেমপ্লেট থেকে প্রতিটি ধরনের SMS-এর ভাষা আপনি নিজের সমিতির মতো করে সাজিয়ে নিতে পারবেন — সদস্যের নাম, টাকার অঙ্ক, তারিখ, ব্যালেন্স এসব ফাঁকা জায়গায় অ্যাপ নিজে থেকে বসিয়ে দেয়। কোন ধরনের SMS চালু থাকবে (যেমন আদায় রসিদ) আর কোনটা বন্ধ, তা-ও এখান থেকেই ঠিক করা যায়। উদাহরণ: রসিদ-SMS-এ সমিতির নাম আর একটা ধন্যবাদ বার্তা জুড়ে দিলেন — এখন থেকে প্রতিটি রসিদ সেই সুন্দর ভাষায় যাবে।

সাবস্ক্রিপশন ও পেমেন্ট

৪টি প্রশ্ন
অ্যাপের খরচ কত?

খরচটা আপনার সমিতির সদস্য-সংখ্যার উপর নির্ভর করে, আর সব প্ল্যানই বাৎসরিক — অর্থাৎ এক পেমেন্টে পুরো ১ বছর, মাসে মাসে আলাদা বিল বা ঝামেলা নেই। ৫০ / ১০০ / ২০০ / ৩০০ / ৪০০ / ৫০০ সদস্যের প্ল্যান থেকে আপনার সমিতির মাপের প্ল্যানটা নিন — ছোট সমিতি হলে ছোট প্ল্যান, কম খরচ। দাম এবং কোন প্ল্যানে কী কী আছে দেখতে: আরও → সাবস্ক্রিপশন → প্ল্যান ও মূল্য। ৫০০-এর বেশি সদস্যের বড় সমিতির জন্য কাস্টম প্ল্যান করা যায় — সাপোর্ট চ্যাটে যোগাযোগ করুন।

পেমেন্ট করব কীভাবে?

পুরোটা অ্যাপের ভেতর থেকেই, বিকাশে — ব্যাংকে যাওয়া বা কাগজপত্রের দরকার নেই। প্ল্যান বেছে কিনুন বোতামে চাপুন, বিকাশ পেমেন্টের পাতা খুলবে, আপনার পিন দিলেই পেমেন্ট সম্পন্ন — আর সাথে সাথেই সাবস্ক্রিপশন চালু হয়ে যায়, অপেক্ষা করতে হয় না। পেমেন্টের রসিদ ও ইনভয়েসও অ্যাপেই পেয়ে যাবেন, হিসাবের জন্য রেখে দিতে পারবেন।

মেয়াদের মাঝে সদস্য বেড়ে গেলে কী করব?

কোনো সমস্যা নেই — একটা বড় প্ল্যানে আপগ্রেড করে নিন। আর ভালো খবর হলো, আপগ্রেড করতে পুরো নতুন দাম দিতে হয় না; শুধু বছরের বাকি দিনগুলোর জন্য দামের পার্থক্যটুকু দিতে হয়, আর সেটা অ্যাপ নিজেই হিসাব করে দেখিয়ে দেয়। আপনার মেয়াদ যা ছিল তা-ই থাকে, শুধু সদস্য-সীমা বেড়ে যায়। আর ছোট প্ল্যানে নামতে চাইলে সেটা বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কার্যকর হবে। উদাহরণ: ৫০-এর প্ল্যানে সদস্য ৬০ ছাড়াল — ১০০-র প্ল্যানে গিয়ে শুধু বাকি মাসগুলোর পার্থক্য দিলেন।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমার ডেটার কী হবে?

আপনার সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে — এক টুকরো হিসাবও মুছে যায় না, ভয় পাবেন না। মেয়াদ শেষ হলে শুধু অ্যাপে নতুন লেনদেন ঢোকানো সাময়িকভাবে আটকে যায় (নতুন আদায়/জমা বসানো যায় না); কিন্তু পুরনো হিসাব, রিপোর্ট, সদস্য-তথ্য দেখা বন্ধ হয় না। নবায়ন করলেই সব আগের মতো পুরোপুরি চালু হয়ে যায়, কিছু হারায় না। তাই মেয়াদ শেষের কাছাকাছি অ্যাপ আগেভাগে মনে করিয়ে দেয়, যাতে সময়মতো নবায়ন করে নিতে পারেন।

প্রিমিয়াম ফিচার

৩টি প্রশ্ন
প্রিমিয়াম ফিচার কী কী?

সাবস্ক্রিপশনের বাইরে কিছু বাড়তি সুবিধা আছে, যেগুলো দরকার হলে এককালীন কিনে নেওয়া যায় (একবার কিনলেই আজীবন আপনার)। যেমন: স্টাফ লোকেশন ট্র্যাকিং (আদায়কারী মাঠে এই মুহূর্তে কোথায় আছে লাইভ ম্যাপে দেখা), ফিঙ্গারপ্রিন্ট লগইন (আঙুল ছুঁইয়ে অ্যাপ খোলা), আর লেনদেন শেয়ার-কার্ড (সদস্যকে পাঠানোর মতো সুন্দর ছবির রসিদ)। সব দেখতে ও কিনতে: আরও → প্রিমিয়াম। যেটা আপনার দরকার শুধু সেটাই নিন, বাকিগুলো না নিলেও অ্যাপ পুরোপুরি চলে।

স্টাফ ট্র্যাকিং কীভাবে কাজ করে?

চালু করলে শুধু কাজের সময়ে আদায়কারীর ফোনের অবস্থান নির্দিষ্ট সময় পরপর রেকর্ড হয়। আপনি লাইভ ম্যাপে দেখতে পান কে এই মুহূর্তে কোথায়, আর দিনশেষে তার সারাদিনের পুরো রুট প্লেব্যাক করে দেখা যায় — কোথায় কোথায় গেছে, কতক্ষণ ছিল, এমনকি ফোনের ব্যাটারি-গতিও। মনে রাখবেন, কাজের সময়ের বাইরে ট্র্যাকিং হয় না — কর্মীর ব্যক্তিগত সময়ে নয়। বড় সমিতিতে একাধিক মাঠকর্মী থাকলে এতে জবাবদিহি ও নিরাপত্তা দুটোই বাড়ে।

প্রিমিয়াম কেনার পর মেয়াদ আছে?

না, প্রিমিয়াম ফিচার এককালীন — একবার বিকাশে কিনে আনলক করলেই হলো, বারবার বা প্রতি বছর টাকা দিতে হয় না। এমনকি আপনার সাবস্ক্রিপশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কেনা প্রিমিয়াম ফিচারের মালিকানা আপনারই থাকে। তাই এটাকে একটা স্থায়ী বিনিয়োগ ধরতে পারেন — একবার কিনলেই কাজ চলবে।

নিরাপত্তা ও ডেটা

৪টি প্রশ্ন
আমার সমিতির তথ্য কতটা নিরাপদ?

অনেক কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়। আপনার সব তথ্য এনক্রিপ্টেড (গোপন-কোডে সুরক্ষিত) সংযোগে ক্লাউড সার্ভারে জমা থাকে — তাই ফোন হারালে, ভেঙে গেলে বা অ্যাপ মুছে ফেললেও হিসাবের কিছুই হয় না, নতুন ফোনে লগইন করলেই ফিরে পাবেন। এক সমিতির তথ্য আরেক সমিতি কখনোই দেখতে পায় না — প্রতিটি সমিতি সম্পূর্ণ আলাদা। আর আপনার স্টাফরা শুধু তাদের অনুমতি অনুযায়ী কাজটুকুই করতে পারে, তার বাইরে কিছু নয়। সব মিলিয়ে টাকার হিসাব থাকে একদম আপনার নিয়ন্ত্রণে।

স্টাফ চলে গেলে / ফোন চুরি হলে অ্যাক্সেস বন্ধ করব কীভাবে?

সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা যায়, দেরি করতে হয় না। আরও → স্টাফ ম্যানেজমেন্ট থেকে সেই স্টাফকে নিষ্ক্রিয় করে দিন, অথবা তার নির্দিষ্ট ডিভাইসটি রিভোক করুন — এরপর ওই ফোন থেকে আর কেউ আপনার সমিতিতে লগইন করতে পারবে না। তবে ভালো ব্যাপার হলো, সে চলে যাওয়ার আগে যা যা লেনদেন করেছিল সেগুলোর রেকর্ড হিসাবে থেকেই যায়, মুছে যায় না — তাই পুরনো হিসাবে কোনো ফাঁক তৈরি হয় না।

কেউ হিসাব বদলে ফেললে ধরা যাবে?

যাবে — এই অ্যাপে হিসাব লুকিয়ে বদলানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি এন্ট্রিতে কে করল আর কখন করল তা রেকর্ড হয়ে থাকে। আর কোনো লেনদেন মুছতে চাইলে সরাসরি ডিলিট হয় না — কারণসহ বাতিল করতে হয়, আর মূল এন্ট্রিটা রেকর্ডে রয়েই যায়। ফলে খাতা নিয়ে কারও মনে সন্দেহ হলে পেছনের পুরো ইতিহাস (কে, কখন, কী করেছিল) দেখে নেওয়া যায়। এতে সৎ পরিচালকের জন্য নিজের স্বচ্ছতা প্রমাণ করা সহজ হয়, আর অসততার সুযোগ কমে।

কোনো সমস্যায় পড়লে সাহায্য পাব কোথায়?

সাহায্য সবসময় হাতের কাছেই। অ্যাপের ভেতরেই একটা সাপোর্ট চ্যাট আছে — আমাদের টিমকে সরাসরি বাংলায় মেসেজ করুন, উত্তর এলে ফোনেই নোটিফিকেশন পাবেন। এছাড়া অনেক কিছু নিজে নিজে শিখে নিতে পারবেন ভিডিও টিউটোরিয়াল (আরও → ভিডিও টিউটোরিয়াল) দেখে, আর এই FAQ-তে তো বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর সাজানোই আছে। তাই কোথাও আটকে গেলে একা বোধ করবেন না — সমাধান খুব কাছেই।

উত্তর খুঁজে পাননি?

আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলুন — অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিজেই দেখে নিন।

যোগাযোগ করুন 📲 অ্যাপ ডাউনলোড